নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. লালন মিয়াকে (২৬) সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী লালন মিয়া। এরআগে, গতকাল (শনিবার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বারহাট্টা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভুক্তেভোগীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী লালন মিয়া শনিবার রাত ১১টার দিকে বারহাট্টা জিরো পয়েন্ট থেকে রেলওয়ে স্টেশন হয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন। রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সামান্য পূর্বে পৌঁছালে অভিযুক্ত মো. শাহ আলম (২৪), মো. তাসিন আহমেদ সৃষ্টি (২৫), জিহাদ হাসান সানু (২১) এবং শাহারুল ইসলাম পিয়াসসহ (১৯) অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচ জন তাকে গতিরোধ করে। সেখানে তারা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি মারে এবং কোমরের বেল্ট দিয়ে আঘাত করে। এমনকি রেললাইনের পাথর দিয়েও তাকে জখম করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ, মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার গলা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা মূল্যের রুপার চেইন এবং পকেট থেকে নগদ চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বারহাট্টা থানার ওসি চম্পদ দাম। তিনি বলেন, মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে কী কাহিনী থাকতে পারে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের বিষয়টি দেখা গেছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার জানান, আহত অবস্থায় লালন ইউএনও কার্যালয়ের ভেতরে এসে বিষয়টি অবগত করেন। পরে তাকে দ্রুত বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং মাথায় আঘাত থাকায় সিটি স্ক্যান করানোর প্রয়োজন হওয়ায় তাকে মমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ইউএনও আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একদিকে সরকারি কর্মচারীর ওপর বর্বরোচিত হামলা, অন্যদিকে নেপথ্যের কী কারণ থাকতে পারে- সব মিলিয়ে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।


