কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদকসেবীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃত প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এখশো টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া (৬০), একই গ্রামের মৃত রহিছ উদ্দিনের ছেলে মো. আজহারুল ইসলাম (৪৫), ছিলিমপুর গ্রামের মো. সাইদুলের ছেলে মো. জনি মিয়া (২৭), চন্দ্রগাতী গ্রামের মো. টিটু মিয়ার ছেলে মাকসুদুল (২১) এবং হাঁসকান্দা গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে রিফাত হাসান (২১)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কান্দিউড়া শ্মশানঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেন্দুয়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নেত্রকোনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন কেন্দুয়া থানাধীন কান্দিউড়া শ্মশানঘাটের ভেতরের ফাঁকা জায়গায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আভিযানিক দল। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযান শেষে রাতেই ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এ সময় আটককৃত আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী প্রত্যেক আসামিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত করেন। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আটককৃত পাঁচজনের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একশো টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে জেলাজুড়ে তাদের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাতেই নেত্রকোনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শ্মশানঘাটের মতো পবিত্র স্থানে মাদকের আসর বসানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও, প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।


