রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
তিস্তা নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে টাস্কফোর্সের অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের চিত্র সামনে আসে। অভিযানকালে ৩টি লৌহদণ্ড, প্লেন সিটের তৈরি ১২টি লোহার ডালি ও ৬টি বেলচা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালগুলো বার্ণিঘাট বিজিবি ক্যাম্পের (বিওপি) জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, ৫১ বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের মেজর জুলকার নাঈন এবং ডিমলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। নদী ও পরিবেশের সুরক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর।
অভিযানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির ৬২ সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিস্তা নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ অবস্থানকে শুধু একটি দিনের অভিযান হিসেবে না দেখে তিস্তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও নদীর সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নদীকে ঘিরে অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ যতদিন থাকবে, ততদিন নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


