মধ্যনগর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার লাইচ ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি, প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আলী হোসেনকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। গত ৬ আগস্ট একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আলী হোসেনের ভাবমূর্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিনের বক্তব্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ট্রাস্টের সেক্রেটারি আলী হোসেন বলেন, লাইচ ভূইয়া কল্যাণ ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানের এসব কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সাংবাদিককে প্রভাবিত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে সাংবাদিকের কথোপকথন বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। আলী হোসেন আরও বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের কাছে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই কোনো পক্ষের প্ররোচনা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রকাশ না করে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিনও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, লাইচ ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিবছর ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টের সদস্যদের সহযোগিতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আলী হোসেনের ভূমিকার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষক, ট্রাস্ট ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে অধ্যক্ষ বলেন, একজন সাংবাদিক তাকে ফোন করেছিলেন।
তিনি তখন অসুস্থ থাকায় সাংবাদিককে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অফিসে এসে কথা বলতে বলেছিলেন। তবে সাংবাদিক অফিসে না এসে তার কথোপকথনের রেকর্ড বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিষ্ঠান বা তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মধ্যনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবু তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। দলের উপজেলা সেক্রেটারিকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের বাংলা প্রভাষক সাইদুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক আলামিন, অফিস সহকারী সুমন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল মুসাব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট আলম, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু হানিফা, মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কবির শাহ, চামড়দানি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবু তাহের জালালীসহ শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


