মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে খাদিজা আক্তার মুন্নী (২০) নামে এক তরুণী গৃহবধূর মরদেহ ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, খাদিজাকে পরিকল্পিতভাবে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সব সদস্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরের দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে থানা-পুলিশ। এরআগে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত খাদিজা আক্তার মুন্নী উপজেলার সেনারামপুর গ্রামের মো. ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পূর্বে কয়রাপাড়া গ্রামের মস্ত মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ মিয়ার সঙ্গে খাদিজা আক্তার মুন্নীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় ও অজুহাত তুলে স্বামী সোহাগ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা খাদিজার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের এক চাচা খাদিজার বাবার বাড়িতে ফোন করে জানান যে খাদিজা ভীষণ অসুস্থ এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এমন ফোন পেয়ে খাদিজার পরিবারের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে কয়রাপাড়া গ্রামে সোহাগের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের মেঝেতে খাদিজার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নিহতের স্বামী সোহাগ মিয়া, শ্বশুর মস্ত মিয়া ও তার সৎ শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতের কোনো এক সময় খাদিজাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। পরে খবর দেওয়া হলে রাত ২টার দিকে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই দিবাগত রাতে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য মরদেহ নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে গৃহবধূ খাদিজা আক্তার মুন্নীর অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শোকাহত স্বজনরা।


