নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানা পুলিশের প্রশংসনীয় উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ১৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দুর্গাপুর থানার আওতাধীন এলাকার বেশ কয়েকজন নাগরিক তাদের শখের ও প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নাগরিকদের এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ থানা পুলিশের একটি দলকে মোবাইলগুলো উদ্ধারের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে পুলিশের আইটি সেল ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির (আইএমইআই ট্র্যাকিং) সহায়তায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
উদ্ধার কার্যক্রম শেষে দুর্গাপুর থানা প্রাঙ্গণে প্রকৃত মালিকদের ডেকে তাদের পরিচয় ও মোবাইলের বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফোনগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর নিজেদের হারিয়ে যাওয়া মহামূল্যবান ও শখের মোবাইল ফোনটি অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে মালিকদের চোখেমুখে আনন্দের ছটা দেখা যায়। অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও বিশেষ করে দুর্গাপুর থানা পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোবাইল ফিরে পাওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, “ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্যই থানায় জিডি করেছিলাম। দুর্গাপুর থানা পুলিশ এত দ্রুত ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ফোনগুলো উদ্ধার করে দেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। পুলিশের এই সেবায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “জনগণকে আইনি সেবা প্রদান করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। থানায় যারা মোবাইল হারানোর জিডি করেছিলেন, আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সেই হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আজ ১৫টি মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং যেকোনো প্রয়োজনে দুর্গাপুর থানা পুলিশ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে।”
দুর্গাপুর থানা পুলিশের এমন সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি এমন জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


