নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষকের জীবন, স্বাস্থ্য এবং মাটির প্রাকৃতিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেত্রকোনার আমতলা ইউনিয়নের গাছগড়িয়া গ্রামে ‘কৃষি প্রতিবেশ বিদ্যা’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী গ্রাম আলোচনা ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আয়োজনে স্থানীয় কৃষকরা বিষমুক্ত চাষাবাদ এবং নিজেদের গ্রামকে আদর্শ ‘সবুজ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করেন।
গাছগড়িয়া কৃষক কৃষাণি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষক-কৃষাণি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। উন্মুক্ত গ্রামীণ পরিবেশে আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম এবং স্থানীয় সম্পদ ব্যক্তি মো. আব্দুল কাদির। বাড়ির উঠানে উপস্থিত কৃষক-কৃষাণিরা গোল হয়ে বসে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে এ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
আলোচনা সভায় কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মাটির গুণাগুণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “ফসলে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার শুধু মাটির স্বাভাবিক উর্বরতাকেই নষ্ট করছে না, বরং উৎপাদিত খাদ্যের মাধ্যমে তা কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”
তিনি কৃষকদের অবিলম্বে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি গ্রামে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের সুবিধা তুলে ধরেন, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পাশাপাশি জমিতে ব্যবহারের জন্য উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার প্রদানে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের অপর আলোচক মো. আব্দুল কাদির সাধারণ গ্রামকে কীভাবে ‘সবুজ গ্রাম’-এ রূপান্তরিত করা যায়, সে বিষয়ে দলীয় উদ্যোগ এবং কৃষকদের সম্মিলিত করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি কৃষকদের বোঝান, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমষ্টিগত প্রচেষ্টাই পারে একটি গ্রামকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে এক ভিন্নধর্মী ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্যপট তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারী সকল কৃষক-কৃষাণি হাতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড তুলে নেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘নিরাপদ খাদ্য’, ‘বেটার ফুড বেটার লাইফ’, ‘টেকসই কৃষি এর মতো স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অর্ধবৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে নিজেদের গ্রামকে আদর্শ ‘সবুজ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একযোগে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানের শেষভাগে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ঔষধি ও ফলজ গাছ হিসেবে নিম, জলপাই ও পেয়ারা গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
তৃণমূল পর্যায়ে আয়োজিত এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ কৃষকদের মাঝে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



