দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আজ সোমবার তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত জরুরি বার্তা প্রচার, বন্যা বা ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ অন্যান্য জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে খাগড়াছড়ি জেলায় এখন বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনো ফেরেনি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভা ও আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৭৪। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।

এতে আরে বলা হয়, বান্দরবানে বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।

সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং আজ (সকাল ৬টা-৯টা) ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বাড়ায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নীচে প্রবাহিত হলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই তবে নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বাড়ায় নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলাসহ মোট তিনটি উপজেলা খোয়াই নদী ভাঙনে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টি কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি নিচে নেমে গেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এবং কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ১৫ টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে জেলার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। এছাড়া, কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা গিয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version