(নোয়াখালী প্রতিনিধি- মোহাম্মদ শহিদ):
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদকসেবেনের বিরুদ্ধে কথা বলায় ফারুক (শহীদ মিস্ত্রি) নামের এক বিএনপি নেতাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে এক বিশাল মানববন্ধনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ।
শনিবার (১৮ জুলাই) স্থানীয় সুন্দলপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে কবিরহাটের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় প্রধান সড়কে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । এতে মানববন্ধনে শত শত মানুষের উপস্থিতি এবং হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান সর্বস্তরের মানুষ।
নিহত শহীদ উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় আটকরা হলেন, মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪)। তিনি একই গ্রামের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে। অপর আটক ব্যক্তি মো.সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯) আকবর পুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে। এর আগে, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়।
পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়। উক্ত মানববন্ধনে খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান বক্তরা এতে রাখেন কবির হাট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন, যুবদল নেতা সুমনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও যুব বিভাগের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এলাকায় মাদকের বিস্তার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এই জঘন্য অপরাধ ঘটানো হয়েছে।
আমরা অবিলম্বে খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আকুল আবেদন জানান তারা। এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া জানান , ঘটনার পর পরই পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত দুই আসামি মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ ও আরশাদ ওরফে আকাশকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।


