নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন, খালিয়াজুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওর ও উন্মুক্ত জলাশয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ব্যাপক পরিসরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নিজস্ব তহবিল ও এডিপির অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে মদন উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি। মদনের উচিতপুর হাওরে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
উদ্বোধনী বক্তব্যে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “হাওরাঞ্চল মূলত এক ফসলি এলাকা হওয়ায় বছরের একটা বড় সময় সাধারণ মানুষের হাতে কাজ থাকে না। তাদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করতেই এই হাওরে প্রায় ১৬ টন পোনামাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে।।
তিনি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবমুক্ত করা পোনামাছগুলো যেন আগামী চার-পাঁচ মাস কেউ শিকার না করেন। এগুলো বড় হলে এলাকার মানুষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। মাছ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সমন্বয়ে গ্রামভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আজকের ক্ষুদ্র পোনামাছগুলো কয়েক মাস পরেই দেশের বড় সম্পদে পরিণত হবে, যার প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ।” তিনি ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে যুবসমাজকে রক্ষার তাগিদ দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশীয় কোনো মরণব্যাধি মাদকের কারখানা বাংলাদেশে নেই, সব আসছে সীমান্ত পেরিয়ে। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের পরিকল্পিত চক্রান্ত যেকোনো মূল্যে রুখে দেওয়া হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে”। তিনি মৎস্যজীবীদের কল্যাণে বিশেষ ‘মৎস্যজীবী কার্ড’ চালুর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, বিগত দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী শাসনে এই অঞ্চলের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরকে ফাঁসির আদেশ দিয়েও তাকে জনগণের মন থেকে দূরে রাখা যায়নি। তিনি নেত্রকোনা ও মদন অঞ্চলের অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ও সড়ক অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য আমার মন্ত্রণালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।”
এ অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল পরিমান স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
লোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ দিনব্যাপী মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়জুরী বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



