গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা শহরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে চুরির ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই শহরের কোনো না কোনো এলাকায় চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে শহরের একোয়েস্টেট পাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী শান্ত মিয়ার বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রাতে ডাক্তার দেখানোর জন্য পরিবারের সবাই বাসার বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে চোরেরা বারান্দার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে বাসার একাধিক কক্ষের আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে এসে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হলে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ ঘটনায় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এদিকে শহরের সুন্দরজাহান মোড় এলাকার বাসিন্দা সৌরভ প্রধান জানান, গত এক মাসে তার বাসায় দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, “প্রথমবার চুরির পর নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এরপরও আবার চুরি হয়েছে।
পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে গতকাল ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বাসা পরিবর্তন করেছি।” শুধু শান্ত মিয়া বা সৌরভ প্রধান নন, শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। কোথাও মোটরসাইকেল চুরি, কোথাও ঘরের তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা না যাওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে রাতের বেলায় নির্জন সড়ক ও আবাসিক এলাকাগুলোকে টার্গেট করছে তারা। অনেক এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে রাতের পাহারা দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুয ইসলাম তালুকদার বলেন, “শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”



