ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের তীব্র সংকটে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৬৩টি থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অধিপরামর্শ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন গুপ্ত।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, চলতি বছরের শুরুতে নতুন তিনজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে কাজের চাপ বেশি থাকায় চিকিৎসকদের যোগদানে অনীহা দেখা যায়। তবুও সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসকেরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সভায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে নারী রোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতা, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, স্টাফদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং জরুরি বিভাগে অননুমোদিত অর্থ গ্রহণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন বক্তারা। এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম চালু, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, টিকিট কাউন্টার সময়মতো খোলা এবং চিকিৎসক-নার্সদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানান তাঁরা।
তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নতুন ভবনের তিন তলা চালু করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো ভবন চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। নতুন ভবনে আইসিইউসহ আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা যুক্ত হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেদী হাসান সানী বলেন, সেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় বক্তব্য দেন সনাক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন গুপ্ত, সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, সদর হাসপাতালকেন্দ্রিক এসিজি সদস্য আরিফুর রহমান রায়হান, সাথী আক্তার ও আরিফুর রহমান, ইয়েস সদস্য ফারজানা ইমাম ও আছমা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ল এসিজি সমন্বয়ক সুমাইয়া আক্তার, সহ-সমন্বয়ক নুসরাত জাহান বৃষ্টি, সুব্রত সাহা, নুরুল আলম, মুন্না ফরাজি, ইয়েস দলনেতা তামান্না ইসলাম, সহ-দলনেতা শাকিব খান, সদস্য মো. শাহরিয়া পাপন, মুক্তি আক্তার, মোহনা এবং টিআইবির কর্মীরা।



