জামালপুর প্রতিনিধি: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ পুশইনের একাধিক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
রবিবার রাতে ও সোমবার ভোরে জামালপুর ৩৫ বিজিবির আওতাধীন রৌমারীর বড়াইবাড়ী এবং দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি লাঠিসোঁটা হাতে রাতভর সীমান্ত পাহারায় নামেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।
বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৭ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রৌমারীর বড়াইবাড়ী সীমান্ত এলাকা দিয়ে আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) প্রস্তুতি নেয় বিএসএফ। একপর্যায়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী জোরপূর্বক ওই আটজনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালায়।
তবে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থানরত বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের কাছে। তাৎক্ষণিকভাবে দেশপ্রেমিক এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের কড়া পাহারা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ, যার ফলে তাদের পুশ ইন চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
বড়াইবাড়ী সীমান্তে ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার (৮ জুন) ভোর রাতের দিকে দেওয়ানগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আবারও কয়েকজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। রাতভর সতর্ক থাকা বিজিবি টহল দল এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র বাধার মুখে সেখানেও তাদের অপচেষ্টা ভেস্তে যায়।
সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ও যেকোনো ধরনের অপরাধ ঠেকাতে বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান (পিএসসি) বলেন, “আমাদের সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমাদের বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর যৌথ সহায়তায় তা সফলভাবে রুখে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ পুশ ইন প্রতিরোধ এবং মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ৩৫ বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্তে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা ভবিষ্যতেও বিজিবির পাশে থেকে এভাবেই সীমান্ত পাহারায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।


