শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পানিতে ডুবে সাদিয়া নামের ১৪ মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া একই গ্রামের রাহাত আলী ও নুরনাহার বেগম দম্পতির সবচেয়ে ছোট সন্তান। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সবার অগোচরে ১৪ মাস বয়সী ছোট্ট সাদিয়া হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সে পাশের প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায় সে।
কিছুক্ষণ পর সালমা নামের এক প্রতিবেশী নারী পুকুরের দিকে গেলে বিষয়টি টের পান। তার চিৎকারে দ্রুত আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে সাদিয়ার নিথর দেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানজিনা আক্তার সেতু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শিশু সাদিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আদরের কনিষ্ঠ সন্তানকে হারিয়ে বাবা রাহাত আলী ও মা নুরনাহার বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে কিছুতেই থামছে না তাদের কান্না।
ঘটনার খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছায়। এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”


