জামালপুর প্রতিনিধি: দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সীমান্ত সুরক্ষায় জামালপুরে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং বিশেষ করে ‘পুশইন’ ঠেকাতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৫টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) এলাকার ৭২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবির সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে সীমান্তে টহল দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক টহলই নয়, এবার সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনসাধারণকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যৌথ টহল জোরদার করেছে বিজিবি। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিতে সম্মিলিত প্রয়াস বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিজিবির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রাম ও বাজারগুলোতে নিয়মিত মাইকিং করে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো অবস্থাতেই সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) প্রবেশ না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিজিবির সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে নতুন করে জামালপুর সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, “জামালপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় জনসাধারণের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত আমাদের আওতাধীন সীমান্তে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় বিজিবির তৎপরতা স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।


