জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলায় পৈতৃক জমির বিরোধের জেরে নিজ ভাতিজার হামলায় আব্দুল হক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বর্বরোচিত হামলায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগমও (৪১) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হক ওই গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে। অভিযুক্ত ভাতিজার নাম সালাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই পৈতৃক কৃষিজমির দখল ও মালিকানা নিয়ে আব্দুল হকের সঙ্গে তার ভাতিজা সালামের বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার দুপুরে আব্দুল হক ওই বিরোধপূর্ণ জমির ধান কেটে মাড়াই করার কাজ শুরু করেন। এ খবর পেয়ে ভাতিজা সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
দুপুরের দিকে সালাম ও তার স্ত্রীসহ আরও দুই-তিনি জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আব্দুল হক ও তার স্ত্রী জুলেখা বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধর ও উপর্যুপরি আঘাতে আব্দুল হক ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর জখমের কারণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী জুলেখা বেগমকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
নিহত আব্দুল হকের আরেক ভাতিজা রোকন মিয়া ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, “সালামদের সঙ্গে আমার চাচার অনেক আগে থেকেই জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। সালাম দীর্ঘদিন বিদেশে ছিল। সে কিছুদিন আগে দেশে এসেই জমির দখল নিয়ে কাকার সঙ্গে নতুন করে ঝামেলা শুরু করে। আজকে কাকা ধান কেটে মাড়াই করতে গেলে তারা কাকা-কাকির ওপর অতর্কিত হামলা করে। ঘটনার সময় আমি পাশেই আমার বাড়িতে ছিলাম। চিৎকার শুনে এসে দেখি কাকা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। এরপর আশপাশের অন্যান্য মানুষজন ছুটে আসে।”
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত জুলেখা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভাতিজার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


