জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দীর্ঘদিনের জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীদের অতর্কিত হামলায় দুই নারীসহ একই পরিবারের চারজন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং লাঠির বেধড়ক পিটুনিতে দুই নারীসহ চারজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। আহতরা হলেন- লাইলি বেগম (৫০), মালেকা বেগম (৫৫), আজিজুর রহমান (৪৫) ও মিন্টু মিয়া (৪২)।
এ ঘটনায় বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সাত জনের নাম উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আজিজুর রহমান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার সাতপোয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লাইলি বেগমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী সুলতান মিয়ার পরিবারের মাত্র দুই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ-বৈঠক হলেও সুলতান মিয়ার পক্ষের একগুঁয়েমির কারণে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে জোরপূর্বক পাকা টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু করেন সুলতান মিয়া ও তার লোকজন। বিষয়টি টের পেয়ে লাইলি বেগমের পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতান মিয়ার নেতৃত্বাধীন পক্ষটি লাঠিসোটা, রামদা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাইলি বেগমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনার সময় আক্রান্তদের চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকেই সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে মিন্টু মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, “জমির বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আজ (বুধবার) দুপুরে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


