শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবন মানোন্নয়ন প্রকল্পের ছাগল বিতরণে মারাত্মক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রাহাতুল্লাহকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে জেলাজুড়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অধীনস্থ আরও ১১ জন কর্মচারীকে একযোগে বদলি (গণ-বদলি) করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

একই দিনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অপর আরেকটি স্মারকে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ১১ জন উপসহকারী কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীকে পারস্পরিক বদলি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী এই রদবদল অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
বদলিকৃত ব্যক্তিরা হলেন- উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মো. সারোয়ার জাহানকে কলমাকান্দা থেকে দুর্গাপুরে, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে দুর্গাপুর থেকে কলমাকান্দায়, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) মো. সুরুজ আলীকে কলমাকান্দা থেকে মোহনগঞ্জে, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) মো. সেকান্দর আলীকে মোহনগঞ্জ থেকে কলমাকান্দায়, ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) হারুন অর রশিদকে কলমাকান্দা থেকে বারহাট্টায়, ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) মো. হযরত আলীকে বারহাট্টা থেকে কলমাকান্দায়, এফ এ (এ/আই) সুলতান মাহমুদকে কলমাকান্দা থেকে পূর্বধলায়, এফ এ (এ/আই) সুমন মিয়াকে পূর্বধলা থেকে কলমাকান্দায়, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তারেক হাসানকে মোহনগঞ্জ থেকে কলমাকান্দায়, ড্রেসার মো. শাহজাহান কবীরকে কলমাকান্দা থেকে পূর্বধলায় এবং ড্রেসার মো. মাহাবুব আলমকে পূর্বধলা থেকে কলমাকান্দায়।
আলোচনায় দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট হঠাৎ করে একই উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বরখাস্ত ও গণ-বদলির ঘটনার পর দপ্তরের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ- ইউএলএ এবং অফিস সহায়ক; দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তাছাড়া, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর যোগদানের পর থেকেই কর্মকর্তা আকিজা খাতুন প্রায় ৭ বছর ৭ মাস ধরে প্রেষণে (Deputation) ঢাকার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জনবল সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জেলা জুড়ে আলোড়ন, সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবন মানোন্নয়ন প্রকল্পের অনুদান নিয়ে এমন নয়ছয় এবং এর প্রেক্ষিতে একযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অনুদান ও প্রান্তিক মানুষের প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরণের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা উচিত। একই সাথে কলমাকান্দা উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ঝুলে থাকা তীব্র জনবল সংকটও যাতে দ্রুত নিরসন করা হয়, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।