নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিজ কন্যাকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম (৪৮) নামে এক পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের ফলে ভিকটিম কিশোরী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত শফিকুল মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে এবং ধলা আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম কিশোরী শরিফা (ছদ্মনাম) আগে ঢাকায় একটি বাসায় কাজ করত। গত প্রায় ছয় মাস আগে তাকে তার পিতা শফিকুল ইসলাম পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনিয়া ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ীস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার দুই-তিন দিন পর থেকেই শফিকুল তার মেয়ের ওপর কুনজর দেয়। প্রথমে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে নিয়মিত বিরতিতে (প্রতি ২/৩ দিন অন্তর) তাকে যৌন নিপীড়ন চালাতে থাকে।
প্রায় দুই মাস আগে ভিকটিমকে ময়মনসিংহের একটি বাসায় কাজে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে তার শারীরিক পরিবর্তনের কারণে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ খবর পেয়ে বাবা শফিকুল তাকে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে এবং ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তবে দিন দিন ভিকটিমের শারীরিক গঠন পরিবর্তনের বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীর নজরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পুরো ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়।
বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুলের ইসলামের নির্দেশনায় পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান (পিপিএম) এর নেতৃত্বে এসআই আব্দুল্লাহ আল রাহিদ ও এসআই নাজমুল হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ভিকটিমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও জিয়াউর রহমানসহ থানা এসে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আজ (বুধবার) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় উপজেলার খলিশাপুর ইউনিয়নের গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে অভিযু্ক্ত শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও স্পর্শকাতর। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ভিকটিমকে উদ্ধার করেছি এবং অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামিকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।”



