জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ আল আমিন (২৭) নামে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আল আমিন জামালপুর সদর উপজেলার পূর্ব বাঁশচড়া গ্রামের বক্তার মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে অধিদপ্তরের কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং ধাওয়া খেয়ে ভয়ে বেশ কয়েকজন যুবক পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দেন। তাদের মধ্যে বাকিরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আল আমিন মাঝ নদীতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।
যুবক নিখোঁজের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে বিকেলের দিকে নদী থেকে আল আমিনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শহিদুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করি। নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
একই সময়ে নান্দিনা এলাকায় জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দারের নেতৃত্বে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অন্য আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পাঁচজন মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একশো টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ফায়ার সার্ভিস আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
তবে অভিযানের সময় ধাওয়া দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথ। তিনি দাবি করেন, “অভিযান চলাকালে কাউকে ধাওয়া দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া নদে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টিও আমাদের জানা নেই।”



