নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে অভিনব ও চাঞ্চল্যকর এক জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। নিজের জন্মদাতা বাবা-মা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাদের মৃত দেখিয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন রুমা বেগম নামের এক তরুণী। জালিয়াতির এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামের রুমা বেগম (জন্মসাল ২০০৪) সম্প্রতি ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের সাথে তিনি তার বাবা মো. জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু সনদ সংযুক্ত করেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস যখন আবেদনটি যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) করতে যায়, তখনই তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রুমা বেগমের বাবা জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম দুজনই সুস্থ এবং জীবিত। জামাল মিয়া শ্যামগঞ্জ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাংসের ব্যবসা করছেন এবং এলাকায় সবার কাছে সুপরিচিত। অথচ এনআইডি আবেদনের নথিতে তাদের মৃত দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বয়স ও সম্পর্কের জটিলতা লুকাতে বাবা-মায়ের জন্ম সালেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মায়ের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৯০ সাল হলেও জালিয়াতি করা মৃত্যু সনদে তা ১৯৭৫ সাল দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে আবেদন করা হয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের ভোটার এলাকাও স্থানান্তর করেছেন।
আবেদনকারী রুমা বেগম জানান, মায়ের সাথে বয়সের ব্যবধান কম হওয়ায় আগে ভোটার হতে পারেননি। স্থানীয় এক উদ্যোক্তার সহায়তায় তিনি আবেদন করেছেন। তবে এর আগে এক বক্তব্যে তিনি গ্রাম পুলিশ রুবেলের মাধ্যমে মৃত্যু সনদ সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছিলেন।
গোহালাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব কর্মকর্তাদের। তারা সই করার জন্য আনলে তিনি স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসিন ইসরাক ইঙ্গিত দিয়েছেন, উদ্যোক্তাদের কাছে আইডি-পাসওয়ার্ড থাকায় পোর্টালের অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
কম্পিউটার উদ্যোক্তা জেবিন বেগম ও সাদ্দাম হোসেন এবং গ্রাম পুলিশ রুবেল মিয়া নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে পূর্বধলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান বলেন, “জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে সরকারি নথি তৈরি করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যারা এ ধরণের জালিয়াতি করেছে এবং যারা তথ্য গোপন করে আবেদন করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নির্বাচন অফিস আবেদনটি বাতিল করার পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


