শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর জান্নাতুল (৫) নামে এক শিশুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নে হুগলি জসিউরা গ্রামের মো. আর্শাদ মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় চারজনকে সন্দেহভাজন নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা করে এজাহার দায়ের করেন।
সন্দেহাতীত হিসেবে প্রতিবেশী মো. মজিবুর (৪৫), শামসু (৫২), কাবিল (২২) এবং হাবিল (১৮) এই চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহার বর্ণনা মতে, বিবাদীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে তার বিরোধ ও শত্রুতা চলছিল। তারই জের ধরে বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে জান্নাতুলকে অপহরণ করে হত্যা করেছে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ির পেছনে ধান খেতে ফেলে রেখেছে।
এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আটককৃত শামসু, কাবিল এবং হাবিল এই তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করার কথা জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিধলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনর্চাজ পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। এরআগে গত বুধবার দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
পারিবারিক ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে জান্নাতুল তার মায়ের সাথে প্রতিবেশী হাবিল ও কাবিলদের বাড়িতে খেলতে যায়। পরে বিকাল ৪টার দিকে জান্নাতুলের মা বাড়িতে ফিরে আসলেও শিশুটি অন্য শিশুদের সাথে খেলছিল। পরবর্তীতে মা তাকে খুঁজতে গিয়ে আর পাননি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় কলমাকান্দা থানায় জিডি করা হয়। আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামবাসী, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থান তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো হদিস মেলেনি।
নিখোঁজের পরের দিন ৬ মে সকালের দিকে কৃষক রুহুল আমিন জনৈক জুলহাসের ধান ক্ষেতের আইলে গামছা দিয়ে মুখ ও গলা বাঁধা অবস্থায় জান্নাতুলের মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
মরদেহের সুরতহাল বিবরনী হতে জানা যায়, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে বাম হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন এবং শরীরের বিভিন্ন মাংসপেশি নিখোঁজ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর নৃশংসতা ঢাকতে বা বন্যপ্রাণীর কবলে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।



