স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে জনসাধারণকে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা প্রদান করতে বলা হয়েছিল, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে যথাশিগগিরই সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিরসনে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ভুয়া, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসি ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে এসব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাট সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক-মহাসড়কের ওপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।
তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়।
সীমান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি মাদক, জুয়া এবং অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

