নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলায় অভিনব কায়দায় জুতার ভেতর লুকিয়ে মাদক পাচারকালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের হারিয়াউন্দ গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের বাড়য়পাড়া গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রমজান আলী (৩২)।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-দুর্গাপুর সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের চার হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস রেইডিং দল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে। পূর্বধলা থানাধীন শ্যামগঞ্জ-দুর্গাপুর সড়কে প্রদীপ পণ্ডিতের বাড়ির পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে সন্দেহভাজন হিসেবে হাবিবুর রহমান ও রমজান আলীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের পায়ে থাকা জুতা তল্লাশি করে জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা চার হাজার ৭৫০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বর্তমান অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে এই দুই কারবারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব সব কৌশল ব্যবহার করে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক জানান, বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি নিজেই বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করছেন। মাদকের বিরুদ্ধে ডিএনসির এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।



