মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে গ্রাহককে তা পরিশোধে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা ও নতুন মিটার না দেওয়ার হুমকি দিয়ে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী গ্রাহকের। এ ঘটনায় নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইমদাদুল হক ও বিল প্রস্তুতকারী নুরুন্নাহারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) নেত্রকোনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. আরিফুল ইসলাম ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষে আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী লতিফুর রহমান মোহনগঞ্জের ফিস ফিড মিলের স্বত্বাধিকারী।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের বিল প্রস্তুতকারী নুরুন্নাহার ফিস ফিড মিলটির মিটারে ব্যবহৃত প্রকৃত ইউনিটের চেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে দুই হাজার ৮৪৫ ইউনিট বেশি দেখিয়ে ভুতুড়ে বিল তৈরি করেন। পূর্ববর্তী মাসের বিলগুলোর সঙ্গে বর্তমান বিলের ব্যাপক অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখতে পেয়ে ফিস ফিড মিলের মালিক লতিফুর রহমান বিষয়টি অবিলম্বে ডিজিএম মো. ইমদাদুল হককে অবগত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকের সমস্যার সমাধান না করে উল্টো ডিজিএম তাকে হুমকি দেন। সে সময় মিলের মিটারটি পুড়ে গিয়েছিল। ডিজিএম সাফ জানিয়ে দেন, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ না করা হলে পুড়ে যাওয়া মিটারের স্থলে নতুন করে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না। ব্যবসার ক্ষতির কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে ফিস ফিড মিল কর্তৃপক্ষ ওই অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করে।
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর ভয়াবহ জালিয়াতির বিষয়টি গ্রাহকের নজরে আসে। বিলে ১৫ হাজার ৫০ ইউনিট উল্লেখ করে টাকা আদায় করা হলেও, নতুন মিটারের সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার পর দেখা যায় মিটারের প্রকৃত রিডিং মাত্র ১২ হাজার ২০৫ ইউনিট।
এই অসামঞ্জস্যের বিষয়টি ফিস ফিড মিল কর্তৃপক্ষ পুনরায় ডিজিএমকে জানালে তিনি লোক দেখানো ‘মিটার রিডিং টেস্ট প্রত্যয়ন’ প্রদান করেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে টেস্ট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রিডিং ১২ হাজার ৯৭৪ উল্লেখ করা হয়, যা আদায়কৃত বিলের ইউনিটের চেয়ে অনেক কম।
প্রকৃত ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও ডিজিএম অতিরিক্ত বিল প্রস্তুতকারী নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি গ্রাহকের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করা অতিরিক্ত অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টো কোনো সুরাহা ছাড়াই পরবর্তী মার্চ মাসের বিল গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে নোটিশে দাবি করেছেন আইনজীবী।
এমতাবস্থায়, হয়রানি ও প্রতারণার দায়ে ডিজিএম মো. ইমদাদুল হক এবং বিল প্রস্তুতকারী নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা বা মামলা দায়ের করা হবে না, নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে তার লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইমদাদুল হক অতিরিক্ত বিল আদায়ের ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দেননি। তবে লিগ্যাল নোটিশের প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমি এখনও এ ধরনের কোনো আইনি নোটিশ হাতে পাইনি। নোটিশ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
