নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অতঃপর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে এবং সবশেষে কন্যাসন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানো- এমন গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. খাইরুল ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেফতারকৃত মো. খাইরুল ইসলামেরদিনাজপুর জেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) রাত ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানাধীন বর্গা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামি খাইরুল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে তাদের মধ্যে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হতো। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বেড়াতে যান। এ সুযোগে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে খাইরুল ভুক্তভোগীর বাড়িতে আসেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আসামি খাইরুল ‘ভুয়া কাবিননামা’ তৈরি করে বিয়ের নাটক সাজান। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী নারী কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই খাইরুল ভুক্তভোগীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং নিজের স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে অস্বীকার করেন।
প্রতারণা ও সন্তানের অস্বীকৃতির শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নারী আইনি প্রতিকার চেয়ে দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৩ মার্চ দিনাজপুরের খানসামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান আসামি খাইরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যান।
দিনাজপুর খানসামা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন (রিকুইজিশন) এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামি গ্রেফতারে মাঠে নামে র্যাব। গতকাল (সোমবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানাধীন বর্গা বাজার এলাকায় র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে পলাতক খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
