উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোট রাঘবপুর গ্রামে কচু গাছের পাতা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে উভয় পক্ষের চারজন আহত হলেও একপক্ষের অভিযোগই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এতে এলাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর উভয় পক্ষই থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেয়।
একপক্ষে আবুল মুনসুর (৪২) ও বিউটি আক্তার (৪৫) আহত হলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মঞ্জুরুল হক বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৭ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। অপরদিকে রানা মিয়া (২৪) ও সোহেল মিয়া (২১) আহত হলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে পৃথক অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ শুধুমাত্র মঞ্জুরুল হকের অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করে এবং অপরপক্ষের অভিযোগটি উপেক্ষা করে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মামলার পর বিবাদী পক্ষের ৮ জন আদালতে হাজির হলে আদালত ৬ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে ফারুক মিয়া (২৮) ও রফিকুল ইসলাম (৪১) নামের দুইজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগকারী রুহুল আমিন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের দুজন করে চারজন আহত হয়। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। একপক্ষের অভিযোগকে প্রাধান্য দিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।
বিউটি আক্তারের মাথায় গুরুতর আঘাত সম্পর্কে মামলার বাদি মঞ্জুরুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বিউটি আক্তারের মাথায় আঘাতের চিহ্নের একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, গুরুতর আঘাতের ফলে মাথায় তিন চারটি সেলাই করতে হয়েছে। এছাড়াও তার ভাই আবুল মুনসুর ও গুরুতর আহত হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু রায়হান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিউটি আক্তারকে পাননি, তবে ছবিতে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
