শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় বিষাক্ত ‘গ্রিন পিট ভাইপার’ (Green Pit Viper) সাপের দংশনের শিকার হয়েও সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো এবং দ্রুত চিকিৎসার কল্যাণে প্রাণে বেঁচে গেছেন নোয়েল (২৬) নামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক যুবক। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ শরীরে নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা নোয়েল।
এরআগে, গতকাল বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের জঙ্গলাকীর্ণ মরিচের জমিতে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে অসাবধানতাবশত বিষাক্ত গ্রিন পিট ভাইপার সাপ তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে দংশন করে।
সাপের দংশনের পর নোয়েল চিৎকার করে উঠলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তারা কালক্ষেপণ না করে প্রাথমিকভাবে দংশিত স্থানের ওপরে (কনুইয়ের কাছে) কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেন। এরপর কোনো ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামসাদ সরোয়ার সামিন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এর তত্ত্বাবধানে একটি বিষাক্ত সাপের দংশন, তা নিশ্চিত করা হয়। রোগীর শরীরে বিষের প্রভাব ছড়ানোর আগেই চিকিৎসকরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোহরাব হোসাইন লিংকন এ বিষয়ে বলেন, “রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে আনা হয়েছিল, যা তার জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা দ্রুত তাকে যথাযথভাবে অ্যান্টিভেনম দিতে সক্ষম হই। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন সরকারি ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “সরকারিভাবে আমাদের হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। যার ফলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এই রোগীকে চিকিৎসা দিতে পেরেছি। সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমেই উপজেলায় বিষাক্ত সাপের দংশনের শিকার হওয়া এই যুবকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মতে, সাপের কামড়ের পর পরিবারের সদস্যরা ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সাপের দংশনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে অমূল্য সময় নষ্ট করা যাবে না। দংশনের পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে, কারণ সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
