জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি পুকুর থেকে বোমা সাদৃশ্য পুরোনো একটি মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জং ধরা এই অবিস্ফোরিত মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামালপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে দক্ষিণ কামালপুর গ্রামের সাদা মিয়ার পুকুর পাড়ে স্থানীয় এক নারী তার ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান। ঘাস খাওয়ানোর একপর্যায়ে পুকুরের এক কোনায় কাদার মধ্যে একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। সেটিকে সাধারণ লোহার টুকরো মনে করে কুড়িয়ে আনেন ওই নারী। এ সময় স্থানীয় লোকজনের চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। তারা কাছে গিয়ে জং ধরা পুরোনো বস্তুটিকে মর্টারশেল হিসেবে চিহ্নিত করেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে এটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত কামালপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং মর্টারশেলটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে বোমা সাদৃশ্য ওই মর্টারশেলটি উদ্ধারস্থানের পাশেই পুলিশের কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সুরক্ষার স্বার্থে মর্টার শেলটি বর্তমানে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের ধারণা, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে ব্যবহারের জন্য এই মর্টারশেলটি কামালপুরে আনা হয়েছিল। সেসময় হয়তো কোনো কারণে এটি অবিস্ফোরিত থেকে যায় এবং কালক্রমে পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ধানুয়া কামালপুর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গন হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। তারা আসলেই মর্টারশেলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিষ্ক্রিয় করার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
