শেখ শামীম: দীর্ঘদিন ধরে জনবল ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় ধুঁকতে থাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবশেষে চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গত ১১ এপ্রিল দ্যা মেইল বিডি ডটকম’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদে হাসপাতালটির বেহাল দশা উঠে আসার পর জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের হস্তক্ষেপে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন পাঁচজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। একই সাথে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও তিনজন চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বদলির আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশে জনস্বার্থে কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নকৃত চিকিৎসকরা হলেন- ডা. ইয়াসার হাবীবকে ও ডা. সানজিদা ইয়াসমিনকে সহকারী সার্জন, ডা. মাহমুদুল হাসান আল-ফারাবী ও ডা. অমিত সাহাকে ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার এবং ডা. আসমাউল ইসলাম রুম্পাকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়মিত পদায়ন করা হয়েছে।
দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নকৃত চিকিৎসকরা হলেন- ডা. পলাশ কুমার সরকারকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়মিত পদায়ন করা হয়েছে। ডা. সাঈফ জামানকে সহকারী সার্জন হিসেবে দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং ডা. শুচি বনিককে সহকারী সার্জন হিসেবে বিরিশিরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পদায়ন করা হলেও তারা মূলত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনায় উল্লেখ হয়েছে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ দিন থেকে তারা সরাসরি অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। আদেশে পদায়িত কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যোগদান ব্যতিত আদেশ পুনঃবিবেচনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বদলি আদেশের পর কলমাকান্দা উপজেলায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে সক্ষম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) দ্রুত পদায়ন জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
গত ১১ এপ্রিল প্রকাশিত ‘‘কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: জনবল ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় ধুঁকছে স্বাস্থ্যসেবা’’ শীর্ষক সংবাদে উঠে আসে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার চিত্র। হাসপাতালটিতে ৪১টি অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত ছিলেন মাত্র ২০ জন। এর মধ্যেও ৪ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে (প্রেষণ) ছিলেন এবং একজন বছরের পর বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকরা হলেন- কার্ডিওলজির ডা. এ. কে. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০২৩ সাল থেকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে), চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল হান্নান (২০১৭ সাল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে), শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ নঈম ইকবাল মোল্লা (২০২৪ সাল থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে) এবং সহকারী সার্জন ডা. জেন্টি মজুমদার (২০২৪ সাল থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে)। এছাড়া আরএমও ডা. সজীব পাল চৌধুরী ২০১৯ সাল থেকে কর্মস্থলে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছেন।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি মূল্যবান যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে থাকায় সাধারণ রোগীরা বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দ্বারস্থ হচ্ছিলেন। ডেপুটি স্পিকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন আদেশের মাধ্যমে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরবাসীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবঞ্চনার অবসান হবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
