নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্লাবন তালুকদার (১৭) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের গুতুরা এলাকায় পিজি দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে গুতুরা থেকে কলমাকান্দার দিকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্লাবন তালুকদার। তার পেছনে আরোহী হিসেবে ছিলেন জিসান (১৬)। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে, অর্থাৎ গুতুরা বাজার থেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দিকে যাচ্ছিল অপর একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল। এটি চালাচ্ছিলেন মোস্তাকিম (২০) এবং তার পেছনে বসা ছিল তার ছোট ভাই ইয়ামিন (৪) ও হৃদয় মিয়া (১৬)।
পিজি দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় যানের সব আরোহী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে কিশোর প্লাবন তালুকদার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহত বাকি পাঁচজন বর্তমানে মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্লাবনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল ও কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া গতির কারণেই প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে স্থানীয়দের ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

