নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর ধলি হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম মুক্ত মিয়া (৬৫)। তিনি উপজেলার বরান্তর গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর নিজের জমি থেকেই তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে বরান্তর ধলি হাওরে কৃষকরা বোরো ধান কাটতে যান। ধান কাটার একপর্যায়ে হাওরের জমিতে অর্ধগলিত অবস্থায় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আশরাফ চৌধুরীকে জানানো হয়। ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর প্রথমদিকে মৃতদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় এর পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহের পরনের পোশাক দেখে লাশটি নিখোঁজ মুক্তু মিয়ার বলে শনাক্ত করেন। স্থানীয়রা জানান, যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি মুক্তু মিয়ার নিজস্ব সম্পত্তি ছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৫ থেকে ৭ দিন ধরে মুক্ত মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। তাকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে নিজের জমিতেই এমন মর্মান্তিক অবস্থায় তার খোঁজ মিলবে, তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। ফলে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হলেও, মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

