নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম ময়েজবিন জাবাল ওরফে আমির হোসেন (২১)। তার নিজ জেলা ঢাকা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিম তরুণীর সঙ্গে ঢাকার বাসিন্দা ময়েজবিন জাবাল ওরফে আমির হোসেনের প্রথমে পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আমির হোসেন ভিকটিমকে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দেয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে তরুণীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ভিকটিম তরুণী বিয়ের জন্য বারবার চাপ দিলেও প্রতারক আমির হোসেন নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এর মধ্যেই ভিকটিম দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে আমির হোসেন ভিকটিমকে না জানিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং কৌশলে ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভপাত ঘটায়।
নির্মম এই নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিকটিম ন্যায়বিচারের আশায় বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে নেত্রকোনা জেলার সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করে পুলিশ।
থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর বিষয়টি র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর সদর কোম্পানির নজরে আসে। তারা অবিলম্বে ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইল ক্যাম্পের (সিপিসি-০৩) সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলার প্রধান আসামি ময়েজবিন জাবাল ওরফে আমির হোসেনকে সফলভাবে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় (নেত্রকোনা সদর থানা) হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নেত্রকোনায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর প্রধান আসামি দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। র্যাবের সফল এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।

