Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

ফুডকোর্ট নিয়ন্ত্রণে নিতে সাংবাদিক সংগঠনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ স্বঘোষিত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন ফুড কোর্টের চুক্তি বহাল রাখা এবং ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে একটি সাংবাদিক সংগঠনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক স্বঘোষিত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য ও ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় প্রায় ৬০টি আসন থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ সংকট নিরসনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিমের সময়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ফুড কোর্ট নির্মাণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের সুবিধা নিশ্চিত করা। বর্তমানে ফুড কোর্টটিতে কফি ও লেমন টি ২০ টাকা, লুচি-ডাল ২০ টাকা, দই-চিড়া ও কলা ৩৫ টাকা, কাপ দই ৪০ টাকা, সামুচা ১০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২০ টাকা এবং লাচ্ছি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কম মূল্যের খাবার থাকার কথা থাকলেও এখানে তুলনামূলক বেশি দামে খাবার কিনতে হচ্ছে।

এছাড়া খাবারের মান ও পরিবেশনাও সন্তোষজনক নয়। ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাগর রায় বলেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মতো দামে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে দাম কম থাকার কথা, সেখানে উল্টো বেশি দামে খাবার কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফুড কোর্টটির পরিচালনার দায়িত্ব নেন নজরুল ইসলাম। এরপর থেকে ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে নিজ জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রভাব বলয় তৈরির চেষ্টা করেন।

এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে ডেকে অব্যাহতি পাওয়া সাধারণ সম্পাদক ইউসুব ওসমানের মাধ্যমে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যেখানে সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করা হয়। তবে পরে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ওই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টার নজরে এলে তিনি ইউসুব ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জরুরি কার্যনির্বাহী সভায় ইউসুব ওসমানকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম ও ইউসুব ওসমানের বাড়ি একই জেলায়। এছাড়া বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পর এক পর্যায়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউসুব ওসমানের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে সমাধান করা হয়।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান বলেন, নজরুল ইসলাম জবি প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি নিজেকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও বিষয়টি তাদের জানা নেই।

তিনি প্রধান উপদেষ্টা রাকিব ইসলামের মাধ্যমে প্রেসক্লাবে কাজ শুরু করলেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন না। পরবর্তীতে ছাত্রদল ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। এছাড়া ইউসুব ওসমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আসায় উপদেষ্টা ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version