ফজলে এলাহী মাকাম: পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর এই উৎসবকে সামনে রেখে বর্ণিল রূপ পেয়েছে জামালপুরের নকশী পল্লীগুলো। বৈশাখী আয়োজনে নতুন পোশাকের বিপুল চাহিদা মেটাতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই জেলার নকশী সূচিশিল্পীদের। সুই-সুতায় দিনরাত এক করে তারা তৈরি করছেন শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতোয়া, বেডকভারসহ নানা আকর্ষণীয় হস্তশিল্প। গুণগত মান ও নান্দনিক ডিজাইনের কারণে এখানকার নকশী পণ্যের সুনাম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলা নববর্ষের বিপুল চাহিদা মেটাতে দিন-রাত হুলস্থুল কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে শিল্পীদের। নকশী সূচিকর্মী রাবেয়া জানান, বৈশাখে জামালপুরে বিপুল পরিমাণ নকশী পণ্যের চাহিদা থাকে। তাই অর্ডার ডেলিভারি দিতে রাত জেগেও তাদের কাজ করতে হচ্ছে। তবে বাড়তি কাজের চাপে তাদের মুখে ক্লান্তির চেয়ে হাসিই বেশি, কারণ এর ফলে তাদের বাড়তি কিছু আয় হচ্ছে। রাবেয়ার মতো মনিকা, পারভীন ও কাকলীদের কণ্ঠেও একই সুর। তারা জানান, দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা এই কাজ করছেন, যাতে বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলা নতুন বছরের শুরুটা ভালোভাবে উদযাপন করতে পারেন।
নববর্ষ বরণ এবং বৈশাখী আয়োজনের জন্য দেশের বড় বড় শহরের শোরুমগুলোর জন্য এবার নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতোয়া, লেহেঙ্গা ও শাড়ি তৈরি হচ্ছে। নজরকাড়া এসব হাতে তৈরি নকশী পণ্যের দামও এবার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এসব পণ্যের বিপুল চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।
শতদল হস্তশিল্পের মালিক শাহীন জানান, এবার সুতাসহ অন্যান্য উপকরণের দাম সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ক্রেতাদের সামর্থ্যের মধ্যেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বপ্ন ছোঁয়া হস্তশিল্পের মালিক সেলিম জানান, বৈশাখ এবং গরমের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এবার নতুন ডিজাইনের সুতির পাঞ্জাবি, থ্রিপিস, টুপিস ও ফতুয়া তৈরি করা হয়েছে। বাজারে এসব পণ্যের বর্তমান বিক্রিও বেশ ভালো।
সব মিলিয়ে, নিজেদের নিত্যনতুন ডিজাইনের পছন্দের পোশাকটি কিনে নিয়ে বাঙালি ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ক্রেতারা। পাশাপাশি, বৈশাখের ভরা মৌসুমে ভালো বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন বিক্রেতারা- এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।