জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের শূন্যরেখায় টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর অবশেষে সেই অজ্ঞাত বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় বকশীগঞ্জ থানায় অবস্থান করছেন।
উদ্ধারকৃত ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৮)। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (১০ জুন) সকালে রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে দিয়ে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দা, বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে ওই বৃদ্ধ শূন্যরেখাতেই আটকা পড়েন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়।
শূন্যরেখায় এক বৃদ্ধের আটকে থাকার খবর এবং ছবি দ্রুত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরের সূত্র ধরেই পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ধানুয়া কামালপুর বিজিবি তাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।
ধানুয়া কামালপুর বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা এলেই ওই বৃদ্ধকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ওই বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতে পেয়েছি। বিজিবি তাকে উদ্ধার করে আমাদের থানায় পাঠিয়েছে। তার স্বজনরা খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, “স্বজনরা থানায় এসে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করছেন অনেকেই।



