নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মাঝে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় হটস্পটগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচ’ শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস (পাঁট বছরের নিচে) বয়সী শিশুদের জন্য আয়োজিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি এর সহায়তায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা গণমাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি ও টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ (৪ এপ্রিল) তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোনা জেলায় হাম পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭ জন। ল্যাব পরীক্ষার জন্য এ পর্যন্ত ৭৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনের শরীরে হামের ভাইরাস (ল্যাব পজিটিভ) শনাক্ত হয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের প্রথম হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে। কিন্তু আটপাড়ায় এর চেয়ে কম বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, “যেহেতু এখন নয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই, এমনকি জীবনের প্রথম টিকা পাওয়ার আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে, তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা টিকা দেওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে এনেছি। এখন ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।”
আটপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার শিশুকে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, আটপাড়ার যে কয়েকটি স্পটে (হটস্পট) হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, সেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাম রোগের ভয়াবহতা নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করে ডা. গোলাম মাওলা বলেন, হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। যেসব শিশু আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে বা অন্য কোনো রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হাম হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়।
তবে হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত কার্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই টিকা দিলে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই যেসব শিশু একটি ডোজ পেয়েছে তাদের আরেকটি ডোজ দেওয়া হচ্ছে, আর যারা পায়নি তাদের প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটপাড়ার সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসতে।”
আটপাড়ার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার, মদনের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল হুদা, আটপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্জ্ব মো. মাছুম চৌধুরীসহ স্বাস্থ্যকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি পদক্ষেপে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। টিকা কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিশুদের নিয়ে মায়েদের ভিড় করতে দেখা গেছে।