নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণি পড়ূয়া এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ এবং তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সৌরভকে (২১) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। একই সঙ্গে অপহৃত ওই শিশুটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে অভিযুক্ত সৌরভ বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা সৌরভের অভিভাবককে অভিযোগ করেন। কিন্তু তারা এব্যাপারে কোনো সুষ্ঠু সমাধান না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রাণনাশ ও অপহরণের হুমকি দেয়।
এরই জেরে গত ৩১ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে মায়ের সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে সৌরভ ও তার দুই-তিন জন অজ্ঞাত সহযোগী তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা শিশুটির মাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শিশুটিকে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২ মার্চ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলাটি রুজু করা হয়।
অষ্টগ্রাম থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও ফোর্সসহ ইটনা থানার চৌগাঙ্গা ইউনিয়নের কমলভোগ গ্রামে আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালান। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত সৌরভ ও এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা চরম ঔদ্ধত্য দেখায়।
তারা অপহৃতকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে বাধা দেয় এবং পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আসামিদের বেধড়ক মারধরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা গুরুতর ও রক্তাক্ত জখম হন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে গত ৭ মার্চ কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করে।
পুলিশের ওপর হামলার পর ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প এ ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের ধরতে র্যাব তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
অবশেষে টানা প্রচেষ্টার পর গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত অনুমান সোয়া ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার বনগ্রাম এলাকায় সফল অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের আভিযানিক দল। সেখান থেকে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং জোড়া মামলার প্রধান আসামি সৌরভকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি সৌরভের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে এবং উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
