Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

কলমাকান্দায় ৬০ পরিবার পাচ্ছে নিরাপদ পানি, প্রথম ধাপে পেল ৬ পরিবার

শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নাজিরপুর এলাকায় দরিদ্র পরিবারগুলোর নিরাপদ পানির তীব্র সংকট নিরসনে ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘রামপুর কুবরিকান্দা যুব উন্নয়ন অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’। স্থানীয়দের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা প্রদানে সমিতির সদস্যদের মাঝে পর্যায়ক্রমে ৬০টি গভীর নলকূপ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপেঞ ছয় জন সদস্যের মাঝে নলকূপগুলো হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে এ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামপুর কুবরিকান্দা যুব উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাগর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির ম্যানেজার তাজু বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রোমমান আরা, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম এবং সিনিয়র সাংবাদিক ফখরুল আলম খসরু ও কাজল তালুকদার।

বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনজীবনে নিরাপদ পানির অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা অনেক ক্ষেত্রেই সাধ্যাতীত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় রামপুর কুবরিকান্দা যুব উন্নয়ন সমিতির এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, সম্পূর্ণ বিনা খরচে না হলেও অত্যন্ত সহজলভ্য শর্তে এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সমিতির সদস্যরা নামমাত্র সাড়ে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিজ বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষজনও এখন খুব সহজেই হাতের নাগালে নিরাপদ পানি পাচ্ছেন।

স্থানীয় সুবিধাভোগী ও এলাকাবাসীরা জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তারা সমিতির এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কলমাকান্দার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও শতভাগ নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যা সুস্থ ও সবল সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Exit mobile version