বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল পাচারকালে ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তালতলী খাদ্যগুদামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যগুদাম থেকে কয়েক বস্তা চাল অটোরিকশাযোগে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় রুবেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে আটক করেন। এ সময় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে রুবেলের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে রুবেলের গেঞ্জি ছিঁড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা চালসহ রফিকুল ইসলামকে তালতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর জব্দ করা চাল ছেড়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল ঈদুল আজহার আগেই বিতরণ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “বর্তমানে আমি বরগুনায় অবস্থান করছি। ঈদের আগে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় তিনজন জেলে অনুপস্থিত ছিলেন।
তাদের প্রত্যেকের জন্য ৭৭ কেজি করে চাল খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত ছিল। আজ তাদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে শুনেছি। এছাড়া ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে চালসহ আটক করা হয়নি। অপারেশন ডেভিল হান্টের তালিকাভুক্ত থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জেনেছি।” তবে চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান দাবি করেন, ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতেই চাল বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, “আজ চাল বিতরণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং আমি সেখানে উপস্থিতও ছিলাম না। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ডেকে বিষয়টি অবহিত করেন।” তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “তিনজন জেলের নামে বরাদ্দকৃত চাল অবশিষ্ট ছিল। তারাই চাল নিতে এসেছিলেন। রফিক মেম্বার চাল নেননি।
ওই তিনজনকে চাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলামকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ভিজিএফের চাল বিতরণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ট্যাগ অফিসার ছাড়া চাল বিতরণ করা যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।