Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

মোহনগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার হাজার হাজার ইট তুলে বিক্রির অভিযোগ

তুষার, মোহনগঞ্জ: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় তেতুলিয়া ইউনিয়নের গজধার গ্রামে এডিপি’র অর্থায়নে নির্মিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার ইট তুলে লুটপাট ও বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির হলেন নুরুল আমিন আকন্দ, যিনি পার্শ্ববর্তী ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে লোক লাগিয়ে ওই রাস্তার প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার ইট তুলে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং কিছু ইট নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি গজধার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রায় একশো ফুট রাস্তার ইট তুলে ফেলা হয়েছে। নুরুল আমিন আকন্দের নির্দেশে ইট উত্তোলনের কাজ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। তাদেরই একজন গজধার গ্রামের শ্রমিক কালা বর্মন জানান, দৈনিক পাঁচশো টাকা মজুরিতে তিনিসহ আরও চারজন সুবোধ বর্মন, মায়ারানী, সুমিতা ও আরেকজন মিলে দুই দিনে ইটগুলো রাস্তা থেকে তুলেছেন। তার ধারণা মতে, তারা প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার ইট উত্তোলন করে স্তূপ করে রেখেছেন এবং এর মধ্যে তিনশো ইট আলম নামের একজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

গজধার গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়াও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নুরুল আমিন লোক দিয়ে রাস্তার ইটগুলো তুলেছেন। তিনি আরও জানান, কিছু ইট বিক্রি করা হয়েছে, বেশ কিছু ইট রাস্তার পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং বাকি ইট নুরুল আমিন নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাস্তার ইট ক্রেতা স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম জানান, তিনি নুরুল আমিনের কাছ থেকে তিনশো ইট কিনেছেন। তবে এগুলো সরকারি রাস্তার ইট জানতে পেরে তিনি বলেন, যদি সরকারি লোক এসে ইটগুলো নিতে চায়, তবে তিনি তা দিয়ে দেবেন।

এ বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। এলাকায় ফিরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মুঠোফোনে অবহিত করেন।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল আমিন আকন্দকে ফোন করা হলে তিনি নিজে কথা না বলে মোবাইলটি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রায়হানের কাছে দেন। সাবেক ওই ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরকারি সম্পদ এভাবে রাস্তা থেকে লোক দিয়ে তুলে নিয়ে বিক্রি করাটা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকার লোকজন ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা চলছে।

তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জহর জানিয়েছেন, তিনি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইট ক্রেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইটগুলো সরানো না হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানান তিনি।

Exit mobile version