নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই শিশু। সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় বর্তমানে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নজরদারি।
বুধবার (১ এপ্রিল) পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন থেকে চার মাস বয়সী শিশু মাহাদীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। শিশুটির শরীরে জ্বর, সর্দি এবং ঘামাচির মতো র্যাশ বা লালচে দাগ দেখা যায়, যা সাধারণত হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর একই দিন বিকেলে উপজেলার আগিয়া ইউনিয়ন থেকে মাত্র ২২ দিন বয়সী আরেক শিশু আয়েশা নুরকে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। দুটি শিশুর শরীরেই হামের মতো একই ধরনের লক্ষণ দেখতে পাওয়ায় চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে না রেখে আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই শিশুর বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বিশ্ব প্রিয় মজুমদার জানান, “শিশু দুটির শরীরে দৃশ্যমান লক্ষণগুলো হামের মতো হলেও পরীক্ষা ছাড়া এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা এরই মধ্যে তাদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছি এবং তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশু দুটি প্রকৃতপক্ষে হামে আক্রান্ত কি-না।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুই শিশুই আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
একই দিনে ভিন্ন দুটি ইউনিয়ন থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু হাসপাতালে আসার পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘাগড়া এবং আগিয়া ইউনিয়নে কর্মরত মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে অন্য কোনো শিশুর শরীরে এমন লক্ষণ রয়েছে কি-না, তা জানতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি বা র্যাশের মতো লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো সচেতনতা এবং চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

