কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ের জেরে স্বামীকে মারধর এবং নববধূকে কক্ষে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক লাঞ্ছনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে কেন্দুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এরআগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে, পিজাহাতি গ্রামের মোফাজ্জলের সাথে পাবনার সুজানগর উপজেলার সেতু আক্তারের (২৬) দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। এরই জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে মোফাজ্জলের আগে থেকেই নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এক স্ত্রী ও একটি শিশু সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় এলাকায় এবং পরিবারের সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী সেতু আক্তারের থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী মোফাজ্জল তাকে নিয়ে নিজ গ্রাম পিজাহাতিতে আসেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই মোফাজ্জলের আত্মীয়-স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মোফাজ্জলকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে শাসনের নামে মারধর করেন। একই সময়ে নববধূ সেতু আক্তারকে একটি কক্ষে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়।
সেতু আক্তারের অভিযোগ, ঘরে একা আটকে থাকা অবস্থায় স্থানীয় পিজাহাতি গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে ডালিম মিয়া (৪৫) এবং মৃত চান মিয়ার ছেলে এসহাক মিয়া (৩৫) জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে। তারা তাকে একা পেয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় অভিযুক্তরা তার পরনের ওড়না ছিঁড়ে ফেলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তিনি চিৎকার করলে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে- ঘটনার সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই, কিন্তু শ্লীলতাহানি বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আকারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় সাধারণত জিডি নয়, সরাসরি অভিযোগ বা মামলা আকারে দিতে হয়। তথাপি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।”

