Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

নেত্রকোনায় ট্রেডমার্ক জালিয়াতি: কারাদণ্ডের পরও বাজারে নকল জর্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসা এই পণ্যের নাম, লোগো ও মোড়ক হুবহু নকল করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার দায়ে দুই অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের রায়ে আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও, বাজারে এখনও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে সেই নকল পণ্য।

বুধবার (১ এপ্রিল) এ নিয়ে গণমাধ্যমে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মূল ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নুরউদ্দীন ফকির।

জানা গেছে, পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের ভরাকান্দা এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরউদ্দীন ফকির ২০১৬ সাল থেকে বৈধভাবে “নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা” উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠানের রয়েছে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন নম্বর, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স এবং নিয়মিত কর পরিশোধের সনদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর থেকে তার ব্র্যান্ডের নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক সনদও রয়েছে।

কিন্তু, এই সুনামের সুযোগ নেয় একটি অসাধু চক্র। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চারিয়া বাজারের খাইরুল ইসলাম এবং পূর্বধলার হোগলা বাজার এলাকার সাইন উদ্দীন ফকির যোগসাজশ করে একই নাম, লোগো ও মোড়ক ব্যবহার করে বাজারে নিম্নমানের জর্দা ছাড়তে শুরু করেন। এতে সাধারণ ভোক্তারা চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছিলেন এবং মূল ব্র্যান্ডের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।

ট্রেডমার্ক চুরির বিষয়টি নজরে আসার পর ২০২১ সালে অভিযুক্তদের আইনি নোটিশ পাঠান নুরউদ্দীন ফকির। সে সময় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তারা পুনরায় নকল জর্দার কারবার শুরু করেন।

অবশেষে বাধ্য হয়ে আইনি পথে হাঁটেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। নকল পণ্য বাজারে আসার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত হওয়ার পর, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মামলা করা হয়।

আদালতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরে গত ৩ মার্চ আদালত দুই আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাদের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

রায়ের পর পলাতক থাকা আসামি সাইন উদ্দীন ফকিরকে গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পূর্বধলা থানা পুলিশ। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নেত্রকোনা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে অপর আসামি খাইরুল ইসলামকেও আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রায় এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের পরও স্বস্তিতে নেই মূল ব্র্যান্ডের মালিক। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নুরউদ্দীন ফকির অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা কারাগারে থাকলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে এখনও অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বাজার ঘুরে এখনও নকল ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’র প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরা বলেন, ‍“আমি সরকারের সমস্ত নিয়ম মেনে, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হুবহু আমার ব্র্যান্ড নকল করে পণ্য বিক্রি করে চলেছে। একাধিকবার নিষেধ এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।”

বর্তমানে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নুরউদ্দীন ফকির। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র কারাদণ্ডই যথেষ্ট নয়; কারখানা সিলগালা এবং বাজার থেকে নকল পণ্য দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে বৈধ ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে এ ধরণের প্রতারণা স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Exit mobile version