ইবি প্রতিনিধি:
গণভোটের গণরায় বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় শাখা বৈছাআর আহ্বায়ক এস এম সুইট, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাতসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “ইনসাফপূর্ণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে ১২ তারিখে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি দল যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে, তখন তারা ৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, কোন সংবিধান বলে এই ২৪-এর আন্দোলন হয়েছিল? কোন সংবিধান বলে জুলাই-আগস্টের এই বিপ্লব হয়েছিল?”
তিনি আরও বলেন, “জনগণকে ৭২-এর সংবিধানের দোহাই না দিয়ে গণভোটের জনগণ যে রায় দিয়েছে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে, ‘হ্যাঁ’-র যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করুন এবং সংবিধান সংস্কার করে এ দেশকে পুরোপুরিভাবে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করুন। যাতে এ দেশের ছাত্র জনতাকে আর মাঠে না নামতে হয়।”
ইবির বৈছাআ’র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “বর্তমানে বারবার সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে যারা টালবাহানা করছেন, সংবিধান যদি বাইবেলই হতো তাহলে ১৫ থেকে ১৬ বার কেন সংশোধন করা লাগলো? এতবার সংশোধন করার পরেও মুক্তিকামী জনতাকে এই সংবিধান মুক্তি দিতে পারে নাই। এতে প্রমাণিত হয় ৭২-এর সংবিধান যে বাংলার মুক্তিকামী জনতার সাথে গাদ্দারি করা হয়েছিল, সেটি এখন ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যখনই কোনো সরকার বিরোধী দলে থাকে তখন বলে এই সংবিধানকে আমরা ছুঁড়ে ফেলে দিব। কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পরে তারাই আবার সেই ছুঁড়ে ফেলা সংবিধান কুড়িয়ে নিয়ে এসে আবার তারা শেখ হাসিনা হতে চায়।”
এছাড়া, খেলাফত ছাত্র মজলিস ইবি শাখার সভাপতি জুনায়েদ খান ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

