সঠিক শিক্ষা কাঠামো এবং যথাযথ শিক্ষা পদ্ধতি দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক। তাই শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়নে ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিঞ্চু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য।

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অন্যান্য বিষয়ের মতো শিশুর শিক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত থেকে গেছে। বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি হলেও অনেক শিশু পড়ালেখা শেষ করতে পারছে না। প্রতিবছর বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে অনেক শিশু। আবার অনেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তিই হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, হাওর ও পাহাড়ী এলাকার অনেক শিশু এখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে ৯৯ শতাংশের বেশী শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও শিশুদের ঝরে পড়ার হার কমানো যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক শিশু সনদ এবং শিশু আইনসহ দেশের প্রচলিত আইনে প্রতিটি শিশুকে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ লাভের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা, খাদ্য ও পুষ্টি, শিশুতোষ বিনোদনের সর্বোত্তম ব্যবস্থাসহ শিশুদের সব ধরণের নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসুচি চলাকালীন নিরাপত্তার অভাবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। আবার বিভিন্ন কর্মসুচিতে রাজধানী জুড়ে শুরু হয় অসহনীয় যানজট। তখন কোমলমতি শিশুদের ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। এতে স্কুলে যেতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের সুবিধাবঞ্চিত, স্কুল বহির্ভূত, ঝরে পড়া এবং শহরের কর্মজীবি দরিদ্র শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্কুলের ছেলেমেয়েদের টিফিন দেয়া হচ্ছে। উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে কর্মজীবি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উন্নততর জীবন অনুসন্ধানে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য পর্যায়ক্রমে মৌলিক শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে।

মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সরকারের দারিদ্র হ্রাসকরণের কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গিকারাবদ্ধ। এ কারনেই সরকার এ খাতে অধিক হারে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির হার বাড়ানো, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমাদের সকলের উচিৎ এই অর্জন ধরে রাখা।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version