Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ইস্যুতে এমপির বক্তব্যে আনোয়ারা–কর্ণফুলীতে সমালোচনার ঝড়

নিজ আসনের উন্নয়ন উপেক্ষার অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ স্থানীয়দের আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। তার এ বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। সংসদে তিনি বলেন,প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন যা ১৯৯৩ সালে নীতিগত ভাবে গৃহীত হয়। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা যাত্রীরা পায় না।

এ বিমানবন্দরে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী আসা-যাওয়া করেন, তারা প্রাইভেট জেট নিয়েও আসেন। কিন্তু বর্তমানে বিমানবন্দরের অবস্থা হলো, সেখানে একটি জেলা বিমানবন্দরের মত বিল্ডিং আছে যেখানে আন্তঃনগর এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সংকুলান হয় না এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এসময় তিনি বিমানবন্দরে আর কোনো ভবন এবং টার্মিনাল হবে কিনা সে বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জানতে চান। গত মঙ্গলবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদের তিনি এই সম্পূরক প্রশ্ন করেন। জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় অনেক কিছু অগ্রগতি হয়নি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা দু-এক দিনের মধ্যে সেখানে যাচ্ছি।

আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যাত্রীদের ইচ্ছে অনুযায়ী সেখানে কাজ করার চেষ্টা করা হবে। তবে তার এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার সচেতন নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর বা কর্ণফুলী সেতু তার সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত নয়। অথচ নিজের আসনের জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও উন্নয়ন ঘাটতির বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরা হচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, আনোয়ারা–কর্ণফুলী অঞ্চলে এখনো অনেক মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে, যেগুলোর সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাদক ও ইয়াবা বাণিজ্য দমন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন, সড়ক সম্প্রসারণ ও সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, টেকনিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বেকারত্ব নিরসন এবং পর্যাপ্ত সেতু-কালভার্ট নির্মাণ। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলা অবশ্যই ভালো, কিন্তু একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রথম দায়িত্ব তার নিজ আসনের মানুষের সমস্যা তুলে ধরা।

সচেতন মহল মনে করছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উন্নয়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আনোয়ারা–কর্ণফুলীর অবহেলিত জনগণের অধিকার ও মৌলিক চাহিদাগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য ভবিষ্যতে নিজের আসনের উন্নয়ন ও জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন।

Exit mobile version