Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমান সরকারের সংস্কারের কার্যক্রম ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি খাতের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন,  এখন কোনো একক গোষ্ঠী চাইলেই ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সিটিজেন জার্নালিজম ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সত্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনগণের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি খাতের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃত করা হয়েছিলো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল জাতির ক্রান্তিলগ্নে এক নির্ভীক সামরিক কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন সমঝোতার চেষ্টা বা দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমান ‘আই রিপোর্ট’ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কারও নির্দেশে নয়, বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে নিজের কাঁধে ঝুঁকি নিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস নিজস্ব বিবর্তনের ধারায় জন্ম নেয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ‘অ-মুক্তিযোদ্ধা’কে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানের।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে ভুয়াদের বাদ দিতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা যেভাবে রাজপথে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল, তা ইতিহাসের অংশ।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনা। সভায় বক্তারা শহীদ জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র গঠনে তার কালজয়ী ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।

Exit mobile version