মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকায় দুঃসাহসিক ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা অত্যন্ত কৌশলে দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে আলমিরা ও ড্রয়ার তছনছ করে ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং জমির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরের দিকে পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকায় নেত্রকোনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সোহেল রানার মালিকানাধীন বহুতল ভবনের তিন তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ওই ফ্ল্যাটটিতে ভাড়া থাকেন বারহাট্টা উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অন্নপূর্ণা দেব। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামের স্বর্গীয় মনোরঞ্জন দেবের দ্বিতীয় কন্যা। বারহাট্টা উপজেলাটি মোহনগঞ্জের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় তিনি কর্মস্থলের সুবিধার্থে মাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
ভুক্তভোগী ডা. অন্নপূর্ণা দেব জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও তিনি ফ্ল্যাটের মূল দরজায় তালা মেরে মাকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে ডিউটিতে চলে যান। দুপুর শেষে বাসায় ফিরে এসে তিনি দেখেন দরজার তালাটি বাহ্যিকভাবে একদম ঠিকঠাক ও অক্ষত অবস্থায় লাগানো রয়েছে। তবে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।
ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের আলমারিগুলো খোলা এবং জামাকাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিছানায় ও মেঝেতে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। আলমারিতে সংরক্ষিত থাকা ১৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা গায়েব। শুধু তাই নয়, চোরের দল আলমারিতে থাকা সম্পত্তির দলিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও সাথে করে নিয়ে গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বাসার মালিক সোহেল রানা এবং মোহনগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত
মেয়ের বিয়ের গয়না হারিয়ে দিশেহারা মা ডাঃ অন্নপূর্ণা দেবের মা জবা রাণী দেব কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার বাবা হারা মেয়ের বিয়ের জন্য অনেক কষ্ট করে গয়নাগুলো জমিয়েছিলাম। চোরেরা সেই গয়নাগুলোর সাথে আমাদের সম্পত্তির দলিলগুলোও নিয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন আমার মেয়ের বিয়ের গয়নাগুলো দ্রুত উদ্ধার করে দেয়।”
খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল পারভেজ দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘরের ভেতর ও আশপাশ থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এসআই রবিউল পারভেজ ভুক্তভোগী পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, চোর চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে চুরির খবর পেয়ে ওই বাসাটি পরিদর্শনে আসেন মোহনগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভিপি। চুরির এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকায় মাদকাসক্তদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণেই চুরির মতো অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে মাদকের একটি বড় প্রভাব রয়েছে।’
তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং একই সাথে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়ে দ্রুত চোর শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারের জোর তাগিদ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসিক এলাকার বহুতল ভবনে দিনের আলোয় এমন চতুর চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এক ধরণের নিরাপত্তা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।



