Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

নেত্রকোনায় নিখোঁজের পর আত্মীয়ের ঘরে মিলল শিশুর রক্তাক্ত দেহ

 মোহনগঞ্জের প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় নির্মম ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র তিন বছর বয়সী অবুঝ শিশু অংকিত বর্মনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল আড়াইটার দিকে উপজেলার বরান্তর গ্রামে প্রতিবেশীর ঘরের বিছানা থেকে শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

নিহত অংকিত বর্মন বরান্তর গ্রামের সাগর বর্মনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে অংকিতের বাবা সাগর বর্মন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঢাকায় দাদী বিশু রানি বর্মনের কাছেই থাকত অংকিত, তিনিই নাতিকে দেখাশোনা করতেন। গত মঙ্গলবার দাদীর হাত ধরেই গ্রামের বাড়ি বরান্তরে বেড়াতে এসেছিল ছোট্ট অংকিত।

সোমবার দুপুরে বাড়ির উঠানে আপন মনে খেলা করছিল শিশুটি। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সাংসারিক কাজে বাড়ির আশেপাশে ব্যস্ত ছিলেন। দাদী গিয়েছিলেন পাশের একটি বাড়িতে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দাদী নাতিকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

চারদিকে খোঁজার একপর্যায়ে পাশের বাড়ির একটি কক্ষে (অংকিতের দাদার মামাতো ভাই সুকুমার বর্মনের ঘর) বিছানার ওপর অংকিতকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে।

রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বরান্তর বাজারে এবং পরে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অংকিতকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা সোহাগ বর্মন জানান, “আমরা বাড়ির আশপাশেই কাজ করছিলাম। মা পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে অংকিতকে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন। পরে পাশের বাড়িতে আমার বাবার মামাতো ভাই সুকুমার বর্মনের ঘরে তাকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” এসময় তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে।

ওসি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দ্রুত ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করতে কাজ করছে পুলিশ।”

Exit mobile version